- Advertisement -spot_img
Homeবিদেশখালেদা জিয়ার মৃত্যু তবে কি গাফিলতি ? বিস্ফোরক অভিযোগ চিকিৎসক সিদ্দিকীর

খালেদা জিয়ার মৃত্যু তবে কি গাফিলতি ? বিস্ফোরক অভিযোগ চিকিৎসক সিদ্দিকীর

- Advertisement -spot_img

বাংলাদেশের সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তাঁর চিকিৎসায় গাফিলতি ও ভুল ওষুধ প্রয়োগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই এটি একটি ‘অমার্জনীয় অপরাধ’। এই ঘটনায় সরাসরি নিশানায় রয়েছে পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে গঠিত সরকারি চিকিৎসক দল।

অধ্যাপক সিদ্দিকীর দাবি, ঢাকা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ভুল চিকিৎসার কারণেই খালেদার লিভার সিরোসিস দ্রুত অবনতির দিকে যায়। যা কার্যত তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুক্রবার ঢাকায় আয়োজিত একটি শোকসভায় তিনি জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর পরীক্ষা করে তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। কারণ খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আর্থ্রাইটিসের জন্য ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামক একটি ওষুধ নিয়মিত খাওয়ানো হচ্ছিল। এই ওষুধটি লিভারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিদ্দিকীর ভাষায়, ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ একটি বিষয় ছিল। মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটি উপাদান পরীক্ষা করা জরুরি এবং অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে ওষুধটি বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরেও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকেরা একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং এমটিএক্স (মেথোট্রেক্সেট) বন্ধ করেননি!

বিএনপি চেয়ারপার্সনের মৃত্যুর পর থেকেই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ‘স্লো পয়জন’ বা ধীর বিষপ্রয়োগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেই জল্পনাতেই যেন সিলমোহর দিলেন এই প্রবীণ চিকিৎসক। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মেথোট্রেক্সেট সেই ওষুধ, যেটা তাঁর ফ্যাটি লিভার অসুখ বাড়িয়েছিল এবং সেটা লিভার সিরোসিসে নিয়ে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে এটা তাঁর লিভারের জন্য ‘স্লো পয়জন’ ছিল। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কোনো সুদূরপ্রসারী খুনের পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

অধ্যাপক সিদ্দিকী এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তিনটি দিক খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি। প্রথমত, তৎকালীন সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে কারা ছিলেন এবং কোন যোগ্যতায় তাঁরা দায়িত্ব পেয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, ঢাকা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কারা এই গাফিলতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বারবার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে রাখার আবেদন জানালেও কেন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এবং কারা সেই বাধার নেপথ্যে ছিল।

গত ৩০ ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। তিনি ডায়াবিটিস, কিডনি ও হৃদ্‌রোগসহ বহুবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসক সিদ্দিকীর এই বিস্ফোরক বয়ান এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গঠিত সরকারি মেডিক্যাল বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here