- Advertisement -spot_img
Homeকলকাতাডিএ নিয়ে ফের আইনি জটে নবান্ন, অবমাননার নোটিশ পাঠাল কর্মচারীরা

ডিএ নিয়ে ফের আইনি জটে নবান্ন, অবমাননার নোটিশ পাঠাল কর্মচারীরা

- Advertisement -spot_img

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে নবান্নের অস্বস্তি আরও বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরও বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠাল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন। শুক্রবারই এই আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেও সরকার কেন হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক অন্দরে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে।

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। সেই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কর্মচারীদের যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সংগঠনের অভিযোগ, সেই নির্দেশের পর বেশ কিছু দিন কেটে গেলেও নবান্নের তরফে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। এর ফলেই ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংগঠনের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সাফ জানিয়েছেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া থাকা ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। তা এখনও পর্যন্ত মেটানো হয়নি। সেই কারণে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও অর্থসচিব প্রভাত কুমার মিশ্রকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

আদালত শুধুমাত্র টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, পুরো বিষয়টি তদারকি করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গড়ে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে রয়েছেন হাইকোর্টের দু’জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সিএজি-র পদস্থ আধিকারিক। এই কমিটিই মূলত ঠিক করবে মোট বকেয়ার পরিমাণ কত এবং কতগুলি কিস্তিতে রাজ্য সেই টাকা মেটাবে। আইনজীবী শামিম আরও যোগ করেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট রায় দিয়ে বলেছে, ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। আর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি করতে হবে। সেই কমিটি ঠিক করবে মোট কতটা দিতে হবে। কতগুলি কিস্তিতে সেই টাকা দেওয়া হবে, তা ঠিক করবে ওই কমিটি।’

সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে সওয়াল করা অন্য এক আইনজীবী গোপা বিশ্বাসও রাজ্যের গড়িমসি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পালনে সরকার এখনও কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ করেনি, যা আদালত অবমাননার শামিল। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা এবং ৩১ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এই সংক্রান্ত স্ট্যাটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে রাজ্যকে।

দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য ও কর্মচারীদের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে আন্দোলন করেছে। মামলা গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্ট আগে কর্মচারীদের পক্ষে রায় দিলেও রাজ্য সরকার তাকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায়। অবশেষে ফেব্রুয়ারির শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট কর্মচারীদের পাওনা মেটানোর নির্দেশ দিলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে জটিলতা তৈরি হলো। এখন দেখার, এই আইনি নোটিশের পর নবান্ন পিছু হটে কি না। ফাইল ফটো।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here