সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে, হাতে রয়েছে ধৃত ৩৬ জনের তালিকাও। কিন্তু আদালতে দোষ প্রমাণে তুরুপের তাস ‘সাক্ষী’ কোথায়? বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তির তদন্তে নেমে এখন কার্যত খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন এনআইএ-র আধিকারিকরা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে শাসকদলের নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। কিন্তু সেখানেও মেলেনি আশানুরূপ সহযোগিতা। ফলে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে তদন্তভার হাতে নিলেও সাক্ষী-সংকটে আপাতত বেশ ‘ফাঁপরে’ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তদন্তের গভীরে যেতে এনআইএ-র প্রতিনিধিরা প্রথমেই হানা দিয়েছিলেন বেলডাঙা থানায়। খতিয়ে দেখা হয়েছে কেস ডায়েরি ও যাবতীয় নথিপত্র।
রাজ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনও খামতি খুঁজে পাননি তাঁরা। কেন টানা দু’দিন ধরে ওই এলাকায় তাণ্ডব চলল, এর পিছনে কোনও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা যাচাই করাই এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত দিল্লির আধিকারিকরা। অকুস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেও অধিকাংশ গ্রামবাসীই মুখ খুলতে নারাজ।ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে।
ঝাড়খণ্ডে কর্মরত বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের (৩৭) রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলে সরব হন পরিজনরা। দেহ গ্রামে ফিরতেই জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে বিধায়ক থেকে শুরু করে শাসকদলের প্রথম সারির নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারকে বুঝিয়ে দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
কিন্তু তার পরেও দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব থামেনি। সেই সময়কার মোবাইল ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বেশ কয়েকজন শাসক নেতাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনআইএ।তদন্তকারীদের প্রশ্নের জবাবে শাসক নেতারা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিলেও সাক্ষী জোগাড়ের প্রশ্নে তাঁরা হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এনআইএ-র চাপে অস্বস্তিতে এক স্থানীয় নেতা সাফ জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা যা যা প্রশ্ন করেছেন, আমি তার সঠিক উত্তর দিয়েছি। তারপরে এই ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীকে জোগাড় করে দেওয়ার জন্য আমাকে বলা হয়। কিন্তু, আমি সাক্ষী কোথায় পাব? সেটাই তদন্তকারীদের জানিয়ে দিয়েছি। ফলে সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অচলাবস্থায় দাঁড়িয়ে বেলডাঙা কাণ্ডের তদন্ত। ভিডিও ফুটেজে অপরাধীদের মুখ পরিষ্কার থাকলেও আইনি লড়াইয়ে তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর মতো মানুষের দেখা মিলছে না।
সবমিলিয়ে,বেলডাঙার এই পরিস্থিতি এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। মামলার ডায়েরি এবং নথিপত্র হাতে থাকলেও উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে দোষীরা আদৌ শেষ পর্যন্ত সাজা পাবে কি না, তা নিয়ে খোদ তদন্তকারীদের মনেই সংশয় দানা বাঁধছে। আগামী কয়েক দিনে এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। গ্রামবাসীর এই নিশ্চুপ অবস্থান এবং নেতাদের উদাসীনতা কি শেষ পর্যন্ত তদন্তের গতিপথ বদলে দেবে? নাকি গোয়েন্দারা অন্য কোনও উপায়ে এই অচলাবস্থা কাটাবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ফাইল ফটো ।





