শনিবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করেন। এদিন তিনি নাকুড়তলা মাঠের সভা থেকে মুর্শিদাবাদ হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়, আয়েসবাগ পেট্রোলপাম্প সংলগ্ন প্রবেশ তোরণের শিলান্যাস করে। নাকুড়তলার সভা সেরে জিয়াগঞ্জে আসেন। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জিয়াগঞ্জের ভট্টপাড়ায় আর্সেনিক মুক্ত জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
জিয়াগঞ্জ থেকে বেলডাঙায় যান। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন করে। নাকুড়তলার সভা থেকে মন্ত্রী ফিরহাদ বলেন, যখন ভারতের কুতুব মিনার থেকে ঐতিহাসিক স্টেশনের নাম পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তখন দাঁড়িয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইতিহাসকে আরও বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। দাড়িওয়ালা প্রধানমন্ত্রী নাকি দেশ তৈরি করেছে। আকাশ থেকে টুপ করে পড়ে উনি সব করেছেন। বাকি ইতিহাস বলে কিছু রাখবে না।
আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এদিকে বলছেন, ইতিহাস অস্বীকার করা যাবে না। ভারতবর্ষে একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে, যে একটা সম্প্রদায়ের নাম মুছে দেওয়া হবে। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, ব্রিটিশদের সঙ্গে লড়াই করতে-করতে স্বাধীনতা এসেছে। সিরাজদ্দৌলাকে রক্ত দিতে হয়েছে। ইতিহাস চর্চা না করলে আমরা ভারতবর্ষকে জানতে পারব না। একদিকে ইতিহাস মুছে দেওয়া হচ্ছে। আর আমরা এখানে অর্থাৎ যে জায়গায় ইতিহাস তৈরী হয়েছে বাংলা হিসেবে যে জেলার জন্য গর্ব করি। সেখানে আজ মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চেষ্টা করছে। এভাবেই ইতিহাসকে রক্ষা করতে হবে। আজ হাজারদুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে।
আর আপনারা কারা? আপনারা সবাই সেই বংশধর, যারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াই করেছেন। দাড়িওয়ালা প্রধানমন্ত্রী এত বড় বড় কথা বলতে পারতেন না, আজ যদি স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঙালিরা না লড়াই করতেন। ইতিহাসে বাঙালি বিপ্লবীদের নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। ভারতের যখন নাম নেবেন তখন হিন্দু-মুসলমান একত্রিত ভাবে উচ্চারিত হবে। সিভি রমনের যেমন অবদান আছে, তেমন এপিজি আব্দুল কালামের অবদান আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের নামে পিছন থেকে চুরি মেরেছিলেন আরএসএস। সাভারকার ব্রিটিশদের সঙ্গে চুক্তি করে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এটাও জানা দরকার।
এখন বাঙালি ঐক্যের দরকার। আমাদের ইতিহাস পরের প্রজন্মকে জানাতে হবে। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছেন। এই এসআইআরের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। যে তৃণমূলে ভোট দেবে শুধু তার জন্য কিত্নু মুখ্যমন্ত্রী লড়াই করেননি। তিনি লড়াই করেছেন, এই বাংলার মানুষের জন্য। এই ভারতবর্ষ আমার। আমরা সবাই ভারতীয়। যারা একসাথে থাকি। ইতিহাসকে রক্ষা করার জন্য সারা জীবন কাটরা মসজিদের সামনে ঐতিহাসিক এই গেট থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পে ১ কোটি টাকা দিয়েছেন। পর্যটন নির্ভর এই জেলা আরও সমৃদ্ধ হবে। দেশ-বিদেশ থেকে আরও লোক আসবে এখানে।





