বঙ্গ ভোটের দামামা কার্যত বেজে গেল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার নাড়িনক্ষত্র বুঝে নিতে সোমবারই নবান্ন ও লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
শনিবারই প্রকাশিত হয়েছে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আর তার ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব করল কমিশন। সোমবার সকালে ভার্চুয়াল এই বৈঠকে হাজির থাকবেন রাজ্যের আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক (ডিইও) এবং পুলিশ সুপাররা। সূত্রের খবর, বিকেল গড়াতেই কমিশনের স্ক্যানারে থাকবেন রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিএপিএফ) কর্তারা। মূলত স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করা এবং কত কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী প্রয়োজন, তা নিয়েই বিস্তারিত কাটাছেঁড়া হবে এই বৈঠকে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এবার আগেভাগেই রুটমার্চ ও টহলের ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও রাজনৈতিকভাবে তপ্ত এলাকাগুলোতে যাতে কোনোভাবেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে তারা। স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কীভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী কাজ করবে, তার নীল নকশাও তৈরি হতে পারে এই মেগা বৈঠকে। অনেকের মতে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই মাঠ গুছিয়ে রাখতে চাইছে কমিশন।
ভোটের রাজনীতির সমীকরণে অবশ্য ভোটার তালিকার কাটছাঁট বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। তবে এর মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে রয়েছে। বিচারবিভাগীয় স্তরে এই যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। খসড়া তালিকার পর সব মিলিয়ে বাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। অন্যদিকে, ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নতুন নাম জুড়েছে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চূড়ান্ত ঝাড়াইবাছাইয়ের পর ফের তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সেই চূড়ান্ত তালিকার আগেই হয়তো রাজ্যে বেজে যাবে বিধানসভা নির্বাচনের রণভেরি।





