মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটার তালিকার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যৌক্তিক অসঙ্গতি দূর করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। জেলার প্রায় ১১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের নথিপত্র পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ভিনরাজ্য থেকে আরও ৭০ জন বিচারক আসছেন। সোমবার থেকে মোট ৯৮ জন বিচারক এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করবেন। তবে বিপুল সংখ্যক এই বিচারকদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে জেলা প্রশাসন।গত সোমবার থেকেই জেলায় ২৮ জন বিচারক নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু কাজের বিপুল চাপের তুলনায় সেই সংখ্যা ছিল নগণ্য। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে নথি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। এই ধীর গতি রুখতেই আরও ৭০ জন বিচারককে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ৯৮ জন বিচারকের থাকার বন্দোবস্ত করা রাতারাতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মহিলা বিচারকদের সুরক্ষা ও উপযুক্ত আবাসন নিয়ে চিন্তায় রয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ। এই আবহে ভিনরাজ্যের এই আধিকারিকদের ভরণপোষণ ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে নাজেহাল অবস্থা মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের।ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাঝেই জেলায় বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটেছে। তিনজন অতিরিক্ত জেলাশাসক, বেশ কয়েকজন মহকুমা শাসক , বিডিও এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কত সংখ্যক নথি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান জেলা স্তরে থাকছে না ডেটা সরাসরি কমিশনের সার্ভারে চলে যাচ্ছে।
কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার কবলে পড়ে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকরা। কোচবিহার মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশারুল হোসেন জানান, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পরেও তার নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সবার নাম তালিকায় উঠলেও তার নাম বাদ পড়ায় তিনি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন। একই অভিযোগ বহরমপুরের ব্যবসায়ী সাইফুল হকের। পদবী সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট দিলেও কাজ হয়নি। তার আক্ষেপ, এত কাগজ দেওয়ার পরেও কমিশন কোনো ভেরিফাই করেনি, নাম এখনও বিচারাধীন।





