ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, কিন্তু পাশে লেখা বিচারাধীন। আর সেই যান্ত্রিক তকমাকেই কারণ দেখিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে অস্বীকার করছে জঙ্গিপুর মহকুমা আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর (আরটিও)। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন শতাধিক আবেদনকারী। অভিযোগ, শুধু নথি যাচাই নয়, ড্রাইভিং টেস্ট বা ট্রায়ালেও সামান্য অজুহাতে বহু আবেদনকারীকে ডিসকোয়ালিফাইড করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনই পুনরায় আবেদন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
জঙ্গিপুর মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আবেদনকারীদের দাবি, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা লাইসেন্স নবীকরণের জন্য আবেদন করলেই পরিবহণ দপ্তর ভোটার তালিকার স্ট্যাটাস যাচাই করছে। সেখানে যাঁদের নামের পাশে প্রশাসনিক কারণে বিচারাধীন বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লেখা রয়েছে, তাঁদের আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় প্রশাসনিক ত্রুটি বা যাচাইয়ের কাজ চললে তার সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কী সম্পর্ক থাকতে পারে? আধার কার্ড বা অন্যান্য বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কেন লাইসেন্স পেতে এত জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ উঠেছে, ড্রাইভিং টেস্টের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে। পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা বহু যুবক-যুবতীর দাবি, সামান্য ভুলকে বড় করে দেখিয়ে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। একবার ডিসকোয়ালিফাই হলে ফের সরকারি ফি জমা দিয়ে নতুন করে স্লট বুক করতে হচ্ছে। ফলে বারবার আবেদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে।
জঙ্গিপুরের বাসিন্দা রাজকুমার মির্জা বলেন, আমরা একসঙ্গে ২২ জন ট্রায়াল দিয়েছিলাম। তার মধ্যে মাত্র চারজন পাশ করেছে। বাইক বা গাড়ি খুব দক্ষভাবে চালাতে না পারলে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন।তবে অভিযোগের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও পরিবহণ দপ্তরের তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুরের এআরটিও সুজয় দাস জানান, ‘ডিলিট’ বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা আবেদনকারীদের সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হচ্ছে না। ভোটার কার্ডের পাশাপাশি অন্য কোনও সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে বলা হচ্ছে। তাই অভিযোগ পুরোপুরি সত্যি নয় বলেই দাবি তাঁর।





