দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য–রাষ্ট্রপতি বিতর্কের আবহে তিনি একটি ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তুললেন— রাষ্ট্রপতির অপমান আসলে কে করছে? তাঁর দাবি, বিজেপিই রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদকে ব্যবহার করছে।
রবিবার মথুরাপুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক একটি ছবি বড় পর্দায় দেখান। সেই ছবিতে দেখা যায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী চেয়ারে বসে আছেন, আর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এই ছবি দেখিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করছে কে? বিজেপি না অন্য কেউ?
অভিষেকের দাবি, এই ছবি সরকারিভাবেই প্রকাশ করেছিল প্রেস ইনফরমেশন বুরেও (পিআইবি)। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সেই পদকেও ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, দেশের দুর্ভাগ্য, রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানীয় পদকেও এরা রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার বানাচ্ছে।
এদিন তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে রাষ্ট্রপতির নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্দোলনে বসেছেন। সেই কারণে তিনি রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করতে যাননি বলে এখন বলা হচ্ছে যে রাজ্য সরকার নাকি অপমান করেছে। কিন্তু বাস্তবটা অন্য।
এছাড়াও তিনি একাধিক জাতীয় ইস্যু তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চললেও রাষ্ট্রপতির তরফে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া শোনা যায়নি। পাশাপাশি তিনি বলেন, অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধন কিংবা নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের সময়েও রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি— এই ঘটনাগুলিও মানুষের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিষেক আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন বা কখন বৈঠক করবেন, সেই তালিকা অনেক সময় প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকেই নির্ধারিত হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর একটি কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী–র কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





