রানীবাঁধের প্রত্যন্ত শবর গ্রাম ঘাগরা, বরডাঙ্গা, মোহলা। তিনটি পৃথক টিলার উপর অবস্থিত উপর পাড়া ও নামো পাড়া মিলিয়ে বসবাস কোথাও ২৪টি, ১০টি, ২০টি পরিবারদের। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও গ্রামে উন্নয়নের ছিটেফোঁটা না পৌঁছালেও গ্রামের সংকীর্ণ আলপথ বেয়ে এসআইআর ফর্ম পৌঁছে গেছে বাড়ি-বাড়ি। কিন্তু তা দিয়ে কী হবে? কীভাবেই বা গ্রামবাসীরা পূরণ করবেন সেই ফর্ম!
এখনো অজানা তাঁদের কাছে। ফলে তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে আতঙ্ক। এ রাজ্যের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনজাতি শবর। ব্রিটিশরা সহজ সরল এই সম্প্রদায়কে অপরাধ প্রবণ জনজাতি হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। কয়েক দশক আগে পর্যন্ত সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে বনে-জঙ্গলে, অনুর্বর পাহাড়ি টিলায় বসবাস করতেন এই সম্প্রদায়ের মানুষজন।
পরবর্তীতে ধীরে-ধীরে তাঁদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা হলেও আজো পুরোপুরি তা সম্ভব হয়নি। সেই শবরদেরই বাস বাঁকুড়ার রানীবাঁধ ব্লকের প্রত্যন্ত শবর গ্রামে। তিনটি পৃথক টিলার উপর ঘাগরা, বডডাঙ্গা মৌলা গ্ৰাম উপর ও নামো পাড়া। সবমিলিয়ে বসবাস ২৪টি শবর, ১০টি, ২০টি পরিবারের বসবাস। গ্রামগুলিতে এখনো উন্নয়নের ছিটেফোঁটা পৌঁছায়নি। আবাস প্রকল্পে বাড়ি পাননি হতদরিদ্র কোনো পরিবার। গ্রামে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর্গম আলপথ দিয়ে পৌঁছাতে হয় গ্রামে।
গ্রামের এক জন যুবক মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়েছেন। বাকি অধিকাংশই স্কুলের ধারপাশ মাড়াননি কোনোদিন। গ্রামে নেই পানীয় জলের যথেষ্ট ব্যবস্থা। উন্নয়নের আলো থেকে বহু দূরে থাকা এই গ্রামে সম্প্রতি বিএলও বাড়ি-বাড়ি ঘুরে শবর পরিবারগুলির হাতে পৌঁছে দিয়েছেন এনুমারেশান ফর্ম। কিন্তু সেই ফর্ম দিয়ে হবে কী? কীভাবেই তা পূরণ করবেন? কোথায় জমা দেবেন সেই ফর্ম? কোন তথ্য লাগবে ফর্মে? কী নথিই বা লাগবে তা কিছুই জানেন না গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো। ফলে আতঙ্ক কার্যত তাড়া করে বেড়াচ্ছে গোটা গ্রামকে।





