যানজটের ঝক্কি এড়িয়ে এবার গঙ্গার হাওয়ায় গা ভাসিয়েই পৌঁছে যাওয়া যাবে হলদিয়া বা গঙ্গাসাগর। হুগলি নদীর জলপথ পরিবহণে আমূল বদল আনতে একগুচ্ছ অত্যাধুনিক ক্যাটামারান ভেসেল কিনছে রাজ্য সরকার। সাধারণ লঞ্চের তুলনায় দ্বিগুণ গতি আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মিশেলে এই জলযানগুলি পর্যটন ও যাতায়াতের সংজ্ঞাই বদলে দেবে বলে মনে করছে নবান্ন। বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এই ভেসেলগুলি কেনা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, নদীপথে যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনবে এই ক্যাটামারান। নতুন এই উদ্যোগে একদিকে যেমন মুর্শিদাবাদ, নবদ্বীপ বা মায়াপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলো হাতের নাগালে আসবে, তেমনই যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এতে থাকছে বাতানুকূল ব্যবস্থা এবং বায়ো-টয়েলেট। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘নতুন ধরনের যে ক্যাটামারান ভেসেল কেনা হচ্ছে, সেগুলি অপেক্ষাকৃত কম ওজনের ইস্পাত দিয়ে তৈরি হবে। সেজন্য এগুলির গতি বেশি হবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আরও কিছু বাড়তি সুবিধা থাকবে এতে। আমরা অনেক নতুন জেটি বানাচ্ছি। তার জন্য নতুন ভেসেল কিনতে হচ্ছে।’
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২০টি নতুন জলযান কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩০০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম ৫টি বড় ক্যাটামারান থাকছে, যার প্রতিটির দাম প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়াও ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০ আসন বিশিষ্ট ১০টি ছোট ক্যাটামারান এবং ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা দামের ৫টি মনোহাল ভেসেল কেনা হচ্ছে। এই জলযানগুলি মূলত ইস্পাতের তৈরি এবং ডিজেলে চালিত। দুটি ইঞ্জিন থাকায় মাঝনদীতে একটি বিকল হলেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কোনও অভাব হবে না। এমনকি অগভীর জলেও এগুলি অনায়াসে চলতে পারবে।
আধুনিক নেভিগেশন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে মোড়া এই ভেসেলগুলির জন্য গঙ্গার দুই পাড়ে মোট ৫০টি নতুন জেটি তৈরি করছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড। আগে হলদিয়া রুটে বেসরকারি উদ্যোগে এমন পরিষেবা চালু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে এবার সরকারি উদ্যোগে এই পরিষেবা রাজ্যের পর্যটন শিল্পে জোয়ার আনবে বলে আশাবাদী কর্তারা। শীঘ্রই এই ভেসেল কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। গঙ্গার বুক চিরে এই দ্রুতগামী জলযান কবে থেকে পুরোদমে যাত্রা শুরু করে, এখন সেটাই দেখার।





