সীমান্তে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ। চতুর্থ দিনে পড়ল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। রবিবাসরীয় ভোরেও থমথমে সীমান্ত থেকে শুরু করে খাস কাবুল— সর্বত্রই বারুদের গন্ধ। এর মধ্যেই তালিবান সরকারের বিস্ফোরক দাবি, তারা পাকিস্তানের আরও একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। দুই পড়শি দেশের এই লড়াই এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই, রীতিমতো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।
রবিবার ভোরে ঘুম ভেঙেছে বিস্ফোরণের শব্দে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহারে পর পর বেশ কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। একদিকে যখন সীমান্ত জুড়ে গুলির লড়াই চলছে, তখন অন্যদিকে আকাশপথে হানা দিচ্ছে পাক যুদ্ধবিমান। তবে আফগান সেনার প্রত্যাঘাতে বেকায়দায় ইসলামাবাদ। তালিবান মুখপাত্র জ়বিউল্লা মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান লাগাতার বোমাবর্ষণ করলেও তাদের আরও একটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। দু’দিন আগেও একটি এফ ১৬ যুদ্ধবিমান নামানোর ছবি পোস্ট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল আফগান বাহিনী।
লড়াইয়ের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। পাকিস্তানের দাবি, তারা আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-র বিরুদ্ধে ‘গজ়ব লিল-হক’ অভিযান শুরু করেছে। তবে কাবুলের পাল্টা অভিযোগ, জঙ্গিনিধন তো বাহানা, আসলে সাধারণ জনবসতি এলাকায় হামলা চালাচ্ছে পাক সেনা। আফগান সরকার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়বে। পিছিয়ে নেই ইসলামাবাদও। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ কার্যত খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেছেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ বেঙে গিয়েছে। ওদের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি যুদ্ধে নামলাম।’
দীর্ঘদিন ধরেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি-কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরেছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালিবান শাসিত আফগানিস্তান এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি না বদলানোয় এবার আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান। গত চার দিনের লড়াইয়ে দুই পক্ষই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে। সীমান্ত ছাড়িয়ে লড়াই এখন কাবুলের দোরগোড়ায়। আকাশ ও স্থল— দুই পথেই চলছে পাল্টাপাল্টি আঘাত। আপাতত শান্তির কোনো ইঙ্গিত নেই, বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বারুদের তেজ। ছবি: রয়টার্স।





